দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও দলটিকে ঘিরে বিতর্ক থামছে না। শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয়ের পর রেফারিং নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে আফ্রিকার দেশটি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা ও লিওনেল মেসির প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছে তারা।
মিসরের কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে দাবি করেন, তার দলকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে। তার অভিযোগ, হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে কিংবা মেসিকে প্রতিযোগিতায় রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মিসরের অভিযোগ, ম্যাচে ভিডিও সহকারী রেফারির হস্তক্ষেপে তাদের একটি গোল বাতিল করা হয়। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে তাদের পেনাল্টি পাওয়া উচিত ছিল বলেও দাবি করে দলটি। তবে ম্যাচ বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থাকলেও সেগুলো আর্জেন্টিনার পক্ষে কোনো ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ নয়।
এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ও মরক্কোর ম্যাচে রেফারি, সহকারী রেফারি, চতুর্থ কর্মকর্তা, রিজার্ভ কর্মকর্তা এবং প্রধান ভিডিও সহকারী রেফারি—সবাই আর্জেন্টিনার হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি কোনো প্রমাণ নেই, তবু এই নিয়োগের কারণে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
টুর্নামেন্টের শুরুতেও মেসিকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছিল। আলজেরিয়ার অধিনায়কের ওপর করা একটি ট্যাকলের জন্য তিনি কোনো কার্ড দেখেননি। একই ধরনের ঘটনায় পরে যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগুন ভিডিও সহকারী রেফারির পর্যালোচনার পর লাল কার্ড দেখেন। সমালোচকদের মতে, ওই সময় মেসি লাল কার্ড পেলে পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচে খেলতে পারতেন না এবং তার করা পাঁচটি গোলও আসত না।
পরিসংখ্যানও আলোচনায় এসেছে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা প্রতি ১৯ দশমিক ৭টি ফাউলের বিপরীতে একটি হলুদ কার্ড পেয়েছে। এখনও প্রতিযোগিতায় থাকা দলগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড প্রতি ৭ দশমিক ৭টি ফাউলে একটি করে হলুদ কার্ড দেখেছে। আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের চেয়ে বেশি ফাউল করলেও হলুদ কার্ড পেয়েছে তুলনামূলক কম, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বকাপের সূচি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। প্রতিযোগিতার ড্রয়ের সময় বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, স্পেন ও ইংল্যান্ডকে আলাদা অংশে রাখা হয়েছিল। ফলে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে সেমিফাইনালের আগে একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল না। এতে আর্জেন্টিনা তুলনামূলক সহজ পথ পেয়েছে বলে সমালোচকদের দাবি।
এবারের টুর্নামেন্টেও আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি তিনটি পেনাল্টি পেয়েছে। যদিও এর মধ্যে দুটি পেনাল্টি নষ্ট করেছেন লিওনেল মেসি। এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও পাঁচটি পেনাল্টি পেয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ পেনাল্টি পাওয়ার রেকর্ড গড়েছিল আর্জেন্টিনা।
তবে এখন পর্যন্ত উপস্থাপিত অভিযোগ ও বিতর্কের কোনোটিই আর্জেন্টিনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তারপরও রেফারিং, সূচি এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পথচলা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
/অ